অনলাইন ইনকাম করতে চান? দেখুন কিভাবে অনলাইন থেকে টাকা আয় করা যায়

অনলাইন ইনকাম কথাটা সবারই জানা, আপনারো জানা আছে নিশ্চয়ই,  হয়তো কোনো সামাজিক সাইট থেকে জেনেছেন, নয়তো আপনার বন্ধুর কাছ থেকে জেনেছেন। যেখান থেকেই শুনে বা জেনে থাকেন না কেনো অনলাইন ইনকাম কথাটা আসলেই সত্যি। হ্যা অনলাইন ইনকাম করা যায়।  অনলাইন থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করা যায়। আমরা যেমন দৈনিক কোনো কাজ করে একটা নিদিষ্ট পরিমান আয় করি, তেমনি অনলাইনে নিদিষ্ট একটা ঘন্টা কাজের বিনিময়ে টাকা আয় করা যায় এটাকে ফ্রিল্যান্সিং বলে। এ রকম আরো অনেক উপায় আছে, যা নিয়ে আজ আলোচনা করবো।

ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম:

একটা নির্দিষ্ট সময়ে কাজের বিনিময়ে যেটা ইনকাম করা যায় তা হলো ফ্রিল্যান্সিং। অর্থাৎ আপনি আয় করবেন সময় হিসাবে। বায়ার আপনাকে কাজ করিয়ে নিবে সময় হিসেবে। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন upwork.com  guru.com freelancer.com fiverr.com peopleperhour.com।  এইসব মার্কেট প্লেসে নিজের একটা একাউন্ট করে কাজ করতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই সেই কাজের বিষয়ে দক্ষতা থাকতে হবে প্রচুর। এই মার্কেট প্লেস গুলোতে অনেক অনেক কাজের প্লাটফর্ম রয়েছে, যেমন ওয়েব ডিজাইন,  গ্রাফিক্স ডিজাইন, লেগো ডিজাইন, ওয়েব ডেভলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং,  ভিডিও এডিটিং, ডাটা এন্ট্রি, কন্টেন্ট রাইটিং ইত্যাদি ইত্যাদি। ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে আপনি ফুলটাই বা পার্টটাইম জব হিসাবে নিতে পারেন। তাছাড়া চাকুরির বা পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সি করতে পারেন।

ব্লগিং ও এডসেন্স থেকে ইনকাম :

এটা একেবারেই মুক্ত পেশা, আপনি নিজেই একটা ব্লগ খুলে সেখান থেকে বিভিন্ন ভাবে আয় করতে পারেন, যেমন গুগল এডসেন্স বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, তাছাড়া অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করেও আয় করতে পারেন। আপনি প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখতে পারেন, এবং আপনার লেখা যদি কেউ পড়তে আসে তাহলে আপনি তাদের বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে পারেন।

কন্টেন্ট লিখে ইনকাম :

কন্টেন্ট বা আর্টিকেল লিখেও আয় করা যায়, আপনি যদি বাংলায় কন্টেন লিখেন তাহলে বাংলা কিছু ওয়েবসাইট আছে যারা কোয়ালিটি কন্টেন্ট কিনে থাকে,  আপনি ভালো কন্টেন্ট লিখতে পারলে, আপনার কন্টেন্টগুলো তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রি করে দিতে পারেন, এবং আপনার কন্টেন্টের কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে আপনি কিছু আয় করতে পারেন। এছাড়াও আপনি যদি ইংরেজিতে ভালো কন্টেন্ট লিখতে পারেন তাহলে তো কথাই নাই, অনেক টাকা আয় করা যায় ইংরেজি কন্টেন্ট লিখে, তবে এ ক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার কন্টেন্ট একদম ইউনিক হতে হবে।

ডিজাইনিং করে ইনকাম :

আপনি যদি ভালো গ্রাফিক্স, লেগো, ওয়েব ডিজাইন করতে পারেন তাহলে ওই ডিজাইন থেকেও আয় করতে পারেন। আপনার ডিজাইন গুলো 99designs.com এ বিক্রি করে দিতে পারেন। তাছাড়া বর্তমানে ওয়েবসাইড ডিজাইন করেও বিক্রি করে দিতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেট প্লেসগুলোতে এখন ডিজাইনারদের অনেক মুল্য।

ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম :

আপনার ভালো অভিনয় বা সৃজনশীল কিছু কাজ করতে পারেন তাহলে আপনি ইউটিউবে একটা চ্যানেল খুলে তাতে গুগলের বিজ্ঞাপন বসিয়ে আয় করতে পারেন। একসাথে আ্যাফিলিয়েটও করতে পারেন, তাছাড়া লোকাল কোম্পানির  প্রোডাক্ট  বিক্রি করেও আয় করতে পারেন।

ফটোগ্রাফি করে ইন্টারনেটে আয় :

আপনি যদি ভালো ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্যও সুখবর। বর্তমানে ফটোগ্রাফি করে আয় করা যায়। অনলাইনে অনেক ডিজাইনার আছে যারা তাদের প্রোজেক্ট এর জন্য ছবি খুজে থাকেন এবং অনলাইনে বিভিন্ন ডিজাইনের ছবি কিনেও থাকেন। আপনি আপনার তোলা ছবিগুলো তাদের কাছে বিক্রি করেও টাকা আয় করতে পারেন।ইন্টারনেটে ছবি বিক্রি করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট আসে যেমন ঃ  Istockphoto.com gettyimages.com fotolia.com 

ফটোগ্রাফি করে অনলাইনে কিভাবে আয় করা যায় সে বিষয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত করে পোস্ট করব।

ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ থেকে :

হ্যা, ফেসবুকে তো সারাটা দিন পড়ে থাকেন। কখনো কি ভেবেছেন এই ফেসবুক দিয়েই আপনি আপনার পার্টটাইম জব করে আয় করতে পারেন! হয়তো ভেবেছিলেন, নয়তো জানেন ই না। আজ কিছুটা সংক্ষেপে বলি।
আপনি যদি ফেমাস হয়ে থাকেন বা আপনার প্রতি পোষ্টে যদি অনেক লাইক কমেন্ট আসে বা আপনার যদি অনেক লাইকের পেজ থাকে বা অনেক মেমবারের গ্রুপ থাকে তাহলে আপনি সেখানে এডভার্টাইজ করে আয় করতে পারেন। তাছাড়াও আপনি লোকাল পন্য বিক্রির জন্য পোষ্ট করতে পারেন, হয়তো সেখান থেকে কেউ কেউ আপনার পন্য কিনেও নিতে পারে। একসাথে দুটো কাজ হয়ে গেলো, আড্ডাও দেয়া হলো আয়ও হলো, ভালো না!!!

অ্যফিলিয়েট করে আয় :

কোনো পন্য অন্য কারো কাছে বিক্রি করিয়ে দিয়ে বা কাউকে কোনো বিষয়ে রিকমেন্ট করিয়ে দিয়ে কিছু কমিশন হিসেবে পাওয়াকে অ্যাফিলিয়েট বলে। আপনার যদি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনি Amazon ebay alibaba aliexpress ইত্যাদি ওয়েবসাইটের পন্য বিক্রি করিয়ে দিয়ে আয় করতে পারেন। তাছাড়াও আপনার যদি ফেসবুক পেজ থাকে থাহলে সেখানে এইসব সাইটের পন্যের লিংক দিয়ে দিতে পারেন এবং আপনার পেজের মেমবাররা যদি সেই লিংকে ক্লিক করে সেই পন্যটা কিনে থাকে তাহলে আপনি সেই পন্য বিক্রির জন্য কমিশন হিসেবে কিছু আয় করতে পারেন। আপনার যদি ইনস্ট্রাগ্রাম বা টুইটারে অনেক ফলোয়ার থাকে তাহলে সেখানেও আপনি পন্যের লিংক প্রোমোট করে আয় করতে পারেন।

এইসব কাজের পাশাপাশি আরো অনেক ধরনের কাজ আছে অনলাইন জগতে। আপনি যেটাতে বেশি সুবিধা মনে করেন সেটাতেই লেগে পড়েন, ধৈর্য নিয়ে কাজ করলে সফল হবেন। আপনার যদি কোনো বিষয়ে বিস্তারিত জানার থাকে তাহলে অবশ্যই জানাবেন। আপনাদের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্যই সবসময় প্রস্তুত। কারন আমরা আপনার জন্যই বসে আছি সাহায্য করবো বলে।
তাহলে এখন থেকেই লেগে পড়ুন আপনার অনলাইন আয়ের জগতে। পরবর্তীতে পোষ্ট করবো খুব সহজ উপায়ে কিভাবে এইসব মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা বাংলাদেশে নিয়ে আসবেন।

এই পোষ্টের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন, মতামত, পরামর্শ থাকলে অনুগ্রহ করে নিচের কমেন্ট বাক্সে জানাবেন। আপনাদের প্রতিটি মন্তব্যই আমাকে পরবর্তীতে আরো পোষ্ট করার অনুপ্রেরণা যোগাবে। এই পোষ্টটি ভালো লাগলে নিচে Shere বাটনে ক্লিক করে আপনার অন্য বন্ধুদের শেয়ার করুন যেনো তারাও জানতে পারে।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *