একদম ভালো মানের স্মার্ট ফোন নির্বাচন করার সুন্দর একটি ট্রিক

একদম ভালো মানের মোবাইল চয়েজ করা খুব সহজ ব্যাপার না। এ জন্য আপনাকে মোবাইলের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। প্রাথমিক ধারনা না থাকলে ভালো মানের মোবাইল অনেক সময় আমরা চয়েজ করে পারিনা। এর ফলে কি হয়, কিছুদিন চালানোর পরে ফোনটা হ্যাং হয় স্লো হয় অথবা অনেক রকম সমস্যা দেখা দেয়। ফোনের সমস্যাগুলোর মধ্যে প্রধান একটি সমস্যা হলো ফোন স্লো হয়ে যাওয়া। যাক এগুলো বিষয় নিয়ে আর না লিখি। মুল বিষয়ে চলে আসি।
ফোনের কিছু রেগুলার আইটেম বিল্ডইন থেকেই যায় যেগুলা না দেখলেও চলে। তবে আপনার চাহিদার উপর ডিপেন্ড করে কোনটা আপনার জন্য ভালোহয়। যেমন সেন্সর, ফ্লাশ, সিম স্লোট, টাচ সেন্স পজিশন এগুলা ফোনের মানের দিকে ততোটা প্রভাব ফেলে না।
ভালো মানের ফোন নির্বাচন করার কিছু বিষয় নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলো ।

প্রোসেসর নির্বাচন

উপযুক্ত স্মার্ট ফোন নির্বাচন করার প্রথম ও প্রধান উপাদান হলো প্রোসেসর নির্বাচন। প্রোসেসর হলো প্রধান বস্তু যে ফোনের সকল কাজ করে এবং নিয়ন্ত্রন করে। তাই ভালো মানের প্রোসেসর নির্বাচন খুবই জরুরি। বাজারে বর্তমানে কোয়াডকোর বা অক্টাকোর প্রোসেসর পাওয়া যায়। এগুলা সাধারনত ১.২ থেকে ১.৫ গিগাহার্জের হয়ে থাকে। যত বেশি গিগাহার্জের প্রোসেসর চয়েজ করবেন ততবেশি ভালো পার্ফমেন্স পাবেন ফোনে। সুতরাং ভালো ফোন নির্বাচনে কোয়াডকোর কিংবা অক্টাকোর প্রোসেসরের জুড়ি নেই।

RAM নির্বাচন :

ভালো মানের ফোন নির্বাচন করার জন্য Ram হলো দ্বিতীয় প্রধান বস্তু। সাধারনত র্যামের উপরই নির্ভর করে ফোনটি স্লো হবে নাকি ফাস্ট হবে। তাই র্যাম দেখো ফোন নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান স্মার্ট ফোনগুলোতে ৫১২ এমবি থেকে শুরু করে ৪ জিবি পর্যন্ত র্যাম দেয়া থাকে। যে ফোনের র্যাম বেশি সেই ফোন একটু বেশি ফাস্ট। সুতরাং র্যাম স্পেস দেখে ভালো মানের ফোন নির্বাচন করবেন।

এন্ড্রুয়েড ভার্সন নির্বাচন

এন্ড্রুয়েডের জন্ম হয় ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে প্রায় ৯ বছর আগে। কিন্তু এন্ড্রুয়েডের প্রথম ভার্সন বাজারে ছাড়া হয় ৯ই জুলাই ২০১২ সালে জেলিবীন নামে। তখন এর ভার্সন নাম ছিলো এন্ড্রুয়েড জেলিবীন ৪.১। এরপর ধাপে ধাপে কিটকাট, ললিপপ, মার্সমাল্য বের করা হয়। বর্তমানে এন্ড্রুয়েডের সর্বশেষ ভার্সন হলো ওরিও ৮.১। এটি বাজারে ছাড়া হয় ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে। বর্তমানে এন্ড্রুয়েড সিস্টেমের মালিক গুগল।
আপনি যদি আপডেট ভার্সনের এন্ড্রুয়েড ফোন নির্বাচন করতে চান তাহলে এন্ড্রুয়েড ভার্সন সম্পর্কে ভালো করে জানতে হবে। প্রতিটা নতুন ভার্সনের নতুন ফিচার যোগ করা হয়। নতুন ফিচার সহ ফোন পেতে গেলে আপনাকে নতুন এন্ড্রুয়েড ভার্সনের ফোন নির্বাচন করতে হবে। নতুন ভার্সন গুলো আগের ভার্সনের চেয়ে উন্নত করা হয় এবং কাজের দক্ষতা ও গতি বৃদ্ধি করা হয়।

ব্যাটারি নির্বাচন

স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি নির্বাচন একটা মুখ্য বিষয়। সাধারনত বড় ডিসপ্লে ও সুপার এমলেড ডিসপ্লে গুলোর জন্য ব্যাটারি ক্ষমতা ২০০০ থেকে ৫০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ার হয়ে থাকে। সুতরাং এই রেঞ্জের মধ্যেই যেকোনো অরিজিনাল ব্যাটারি খুব ভালো ব্যাকআপ দিতে পারবে। অরিজিনাল ব্যাটারির সাথে পাল্লা দিয়ে বাজারে অন্যান্য অনেক বেশি অ্যাম্পিয়ারের ব্যাটারিগুলো যদিও বেশি সময় ব্যাকআপ দিতে পারে তবুও সেগুলা বেশি একটা ভালো হবেনা। কারন কিছুদিন পরই তার রেজাল্ট দেখবেন ফোন গরম হবে, হয়তো বা ব্যাকআপ টাইম কমে যাবে।

ক্যামেরা নির্বাচন

সব স্মার্ট ফোনেই ক্যামেরা থাকে। তবে কোনো কোনো স্মার্টফোনে ডুয়াল ক্যামেরা থাকতে পারে। স্মার্ট ফোনে সাধারনত ২ মেগাপিক্সেল থেকে ২০ মেগাপিক্সেল ক্ষমতার ক্যামেরা থাকে। কিছু কিছু ফোনের ক্যামেরা তো এতটাই শক্তিশালী যে অনেক ভালো মানের ছবি তুলতে পারে। বর্তমানে ক্যামেরা ফোনগুলোর জন্য ভিডিও ক্যামেরার ব্যাবহার অনেকখানি কমে গেছে। দামের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে ফোনের ক্যামেরার পিক্সেল ও পরিবর্তিত হয়। তাই আপনার বাজেটের উপর নির্ভর করতেছে আপনি কেমন ক্যামেরা যুক্ত ফোন নিবেন।

ডিসপ্লে নির্বাচন

ডিসপ্লে নির্বাচন করাটাও খুব জরুরি। স্মার্টফোনের ডিসপ্লে ৪ থেকে ৭ ইঞ্চি হয়ে থাকে। ৭ ইঞ্চির বেশি যে যে ফোনগুলা হয় সেগুলাকে ট্যাব বলা হয়।উজ্বলতা ও কালার ধরন দেখে ডিসপ্লে নির্বাচন করবেন। বর্তমানে LCD, LED দুই ধরনের ডিসপ্লে স্মার্ট ফোনে ব্যবহার করা হয়। সুপার এমলেড ডিসপ্লেগুলা আলো সংবেদনশীল হয়। চোখের জন্য ভালো ডিসপ্লে হলো এলইডি এমলেড ডিসপ্লে।
রেজুলেশন দেখে ডিসপ্লে কিনতে পারেন আবার ppi দেখেও ডিসপ্লে কিনতে পারেন। ppi হলো pixel per inch. ভালো মানের এলইডি ডিসপ্লে 450 ppi বা তার অধিক হয়ে থাকে। যত বেশি ppi যুক্ত ডিসপ্লে নির্বাচন করবেন তত ভালো ছবি স্পষ্ট ছবি দেখা যাবে।
বর্তমান ফোনগুলোতে এলইডি ডিসপ্লের ব্যবহার বেশি। আর এই ডিসপ্লেগুলা এমনিতেই ভালো হয়ে থাকে। কালার রেজুলেশনও ভালো।

সেন্সর নির্বাচন

সেন্সর এমন একটি সিস্টেম যা আলো, তাপ বা চাপে সংকেত দিয়ে থাকে এবং বিভিন্ন কাজ করে থাকে। এন্ড্রুয়েড ফোনে সাধারনত প্রক্সিমিটি সেন্স, এক্সেলেরোমিটার সেন্সর বিল্ডইন থাকে। তবে দামের ভিত্তিতে আরো অনেক সেন্সর পাওয়া যায়। যেমন ওয়েদার সেন্সর, হার্টরেট সেন্সর, আইরিস সেন্সর, ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, কম্পাস সেন্সর।
সুতরাং আপনার বাজেটের ভিত্তিতে দেখে নিবেন কি কি সেন্সর দেয়া আছে ফোনে।

অন্যান্য ফিচার নির্বাচন

অন্যান্য ফিচার বলতে USB পোর্ট v2.0 বা তার উপরে নিতে পারেন ডাটা শেয়ারিং এর জন্য। তাছাড়া ওয়ারলেস ল্যান, ব্লুটুথ, অডিও ডিভাইস সিম স্লট, বডি কালার এগুলা খুব সাধারন চয়েজের মধ্যে পড়ে। এগুলা ব্যাবহারকারীর নিজের নির্বাচন।
এক্সটারনাল মেমরি সাপোর্ট ১৬ জিবি থেকে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে দরকার অনুযায়ী নির্বাচন করে নিতে পারেন।

আশাকরি বুঝতে পেরেছেন, এখন থেকে ভালো স্মার্ট ফোন নির্বাচন করতে আপনিও পাবেন। আপনার বন্ধুকেও ভালো ফোন নির্বাচন করে দিতে অবশ্যই হেল্প করবেন। পোস্টে কোনো কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন বা মতামত থাকলে প্লিজ কমেন্ট করবেন।
ধন্যবাদ

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *